কোভিডে একদিনেই ইতালিতে মারা গেছেন ২৭ জন

কোভিডে একদিনেই ইতালিতে মারা গেছেন ২৭ জন

কোভিড-১৯-এ এক দিনেই ইতালিতে মারা গেছে ২৭ জন। এ নিয়ে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৭৯ জনে। ইরানকে পেছনে ফেলে চীনের বাইরে সব চেয়ে বেশি মৃত্যু এখন ইতালিতে। বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২০২ জনে। আক্রান্ত প্রায় ৯৩ হাজার।

নতুন করে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ইরানে ১১, দক্ষিণ কোরিয়ায় ৬ এবং যুক্তরাষ্ট্রে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৯ জন। নিউইয়র্কে আরো এক জনের শরীরে ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর মন্ত্রিসভা ও মার্কিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে জরুরি বৈঠকে ভ্যাকসিন আবিস্কারে জোর দেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের মধ্যে ৪৮ জন চীন ও জাপান থেকে ফিরিয়ে আনা। এদের মধ্যে ৪৫ জনই প্রমোদ তরী ডায়মন্ড প্রিন্সেসের যাত্রী, করোনাভাইরাস আতঙ্ক নিয়ে বিভিন্ন বন্দর ঘুরে জাপানের ইয়োকোহামা বন্দরে নোঙর করা ওই প্রমোদ তরীর যাত্রীদের মাধ্যমে আরো অনেক দেশে এই ভাইরাস ছড়িয়েছে। এর বাইরের তিনজন চীনের উহান থেকে ফিরিয়ে নেয়া হয়, যে শহরে প্রথম এই ভাইরাস সংক্রমণ দেখা দিয়েছিল।

সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি স্টেটে ৫৮ জনের কোভিড-১৯ ধরা পড়েছে।

স্টেটগুলোর মধ্যে ওয়াশিংটনে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৮ জনের শরীরে শনাক্ত হয়েছ। রোগটিতে মারা যাওয়া ছয়জনই এই স্টেটের। এর পরে আক্রান্তের মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া, এখানে ২০ জন আক্রান্ত হয়েছে।

এর বাইরে ইলিনয়ে চারজন, নিউ ইয়র্কে দুইজন, ফ্লোরিডায় দুইজন, অ্যারিজোনায় একজন, ম্যাসাচুসেটসে দুইজন, ওরেগনে তিনজন, রোড আইল্যান্ডে দুইজন, উইসকনসিনে একজন, নিউ হ্যাম্পশায়ারে একজন এবং জর্জিয়ায় দুজনের শরীরে ভাইরাস ধরা পড়েছে।

ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব থেকে বাঁচতে বিশ্ববাসীকে প্রার্থনার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।

তবে, ভাইরাস মোকাবেলায় পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। এছাড়াও প্রয়োজনে যুক্তরাজ্যে সেনা মোতায়েনের কথাও জানানো হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে কভিড-১৯-এ আক্রান্তের সংখ্যার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। বাহরাইনে এখন পর্যন্ত ৪৯ জন কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা যায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশটিতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে গণজমায়েত। সোমবার দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এছাড়া বাহরাইনের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ফ্লাইট সংখ্যা সীমিত করার পাশাপাশি সব স্কুল-মাদ্রাসা সাময়িক বন্ধ ঘোষণা এবং করোনাভাইরাস সম্পর্কে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণসহ নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে দেশটির সরকার।

ভাইরাসের আশঙ্কায় আবুধাবিতে সাময়িকভাবে হোটেল বন্ধ রাখা হয়েছে। ক্রাউন প্লাজা আবুধাবি হোটেলের মুখপাত্র বলেন, আমাদের অতিথি ও সহযোগীদের সুরক্ষা ও সুস্বাস্থ্য আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা কর্তৃপক্ষের দেয়া নির্দেশনা মেনেই আপাতত হোটেল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। শিগগিরই আমরা স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করব।

এর আগে ওমরাহ পালনে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সৌদি আরব সরকার। তারপরও ভাইরাস ঠেকানো যায়নি। ইরান থেকে বাহরাইন হয়ে সৌদিতে ফেরা এক ব্যক্তির শরীরে কভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার।

উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে এখন পর্যন্ত ওমানে ছয়জন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২১ জন, কুয়েতে ৪৬ জন, কাতারে ৪ জন, বাহরাইনে ৪৯ জন ও লেবাননে ১০ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

খবরটি শেয়ার করুন...

Comments are closed.




© All rights reserved © 2018-20 boguratribune.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com