শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ

করোনাভাইরাসের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের বিষয়ে পরামর্শ দেয়ার কথা জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তবে বন্ধের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

তিনি বলেছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। আজ রোববার (১৫ মার্চ) সচিবালয়ে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিং দিতে গিয়ে তিনি এ কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা বা বন্ধ রাখার পুরোটাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তবে পরামর্শ যতটুকু দেয়ার তা আমরা দিয়েছি।

তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষকে নিরাপদে রাখার চেষ্টা করছি। এজন্য দুই মাস ধরেই কাজ করা হচ্ছে। আমরা কারো ওপরে কিছু চাপিয়ে দিতে পারি না। সেজন্য পরামর্শ দিয়ে সবাইকেই চিঠি দিয়েছি।’ তবে এর থেকে বেশি কিছু করতে পারেন না বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এসময় প্রবাসীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে জাহিদ মালেক বলেন, ‘এখন দেশে আসবেন না। বাস, লঞ্চ ও ট্রেন পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি উপসর্গ লক্ষণীয় ব্যক্তিরা বাহিরে বের হবেন না। অন্যান্য মন্ত্রণালয়কেও তাদের করনীয় সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘নতুন করে দুজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। দেশে করোনা ভাইরাস আছে। তবে যেন না ছড়ায় সে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বাস, ট্রেনে ও লঞ্চ জীবানুমুক্ত করতে বলা হয়েছে। এছাড়া জ্বর, সর্দি, কাসি নিয়ে কেউ যেন ভ্রমণ না করে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘ওয়াজ মাহফিলসহ ধর্মীয় অনুষ্ঠান না করার অনুরোধ করা হয়েছে। বস্তিবাসীকেও সচেতন থাকতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশে থাকা আত্মীয়দের দেশে না আসতে সবাইকে অনুরোধ করতে বলা হয়েছে। মসজিদে কম যেতে বলা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেবে।’ সচিবালয়ে ১৮ টি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভা শেষে এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং অন্য কমিউনিকেশন একদম আলাদা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শুধু শিক্ষার্থী ও শিক্ষক যায়। সেখানে কার জ্বর সেটা সবাই জানে। বিশ্বব্যাপী যারা আক্রান্ত হচ্ছেন তাদের মধ্যে বাচ্চার সংখ্যা খুবই কম। ফলে শিক্ষার্থীদের এত আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।’

তিনি বলেন, ‘অভিভাবক অবশ্যই আতঙ্কিত হবেন, অভিভাবক হিসেবে আমিও আতঙ্কিত হবো। কিন্তু, আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হবেন, সচেতন করবেন, আমিও করবো। ওই রকম পরিস্থিতি হলে অবশ্যই সরকার স্কুল বন্ধ করবে বলেও জানান তিনি।

খবরটি শেয়ার করুন...

Comments are closed.




© All rights reserved © 2018-20 boguratribune.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com