কোভিড-১৯ বনাম লকডাউন উঠিয়ে নেয়া : বগুড়াবাসীর করণীয়

কোভিড-১৯ বনাম লকডাউন উঠিয়ে নেয়া : বগুড়াবাসীর করণীয়

বগুড়ায় নতুন করে ৩৫ জন করোনায় শনাক্ত হয়েছেন গত ৩১শে মে পর্যন্ত। পুরুষ ২৫ জন,মহিলা ৯ জন.শিশু ১জন। সবার বয়স ১বছর থেকে সর্বোচ্চ ৭৩ বছরের মধ্যে।
এদের মধ্যে সদরের ১২জন।
বগুড়া শহরের চেলোপাড়ার ৫ জন ও মাটিডালী ২জন, সেউজগাড়ী জলেশ্বরীতলা রাজাবাজারে ১জন । সবাই স্থানীয় ভাবে আক্রান্ত।
 
বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন জানান, বগুড়ার ৩৫৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন। পুরুষ ২৬৫জন. মহিলা ৭৪জন, শিশু ১৮ জন। তন্মদ্ধ্যে বগুড়া সদরে ১৯৮জন,শজাহানপুর ২৭জন,গাবতলী ২৫ জন,কাহালু ১৪জন,শেরপুরে ২২জন,ধুনটে ৯জন,শিবগঞ্জে ৯জন,সারিয়াকান্দীতে ১৫জন, সোনতলায় ১১জন,নন্দীগ্রামে ৭জন দুপচাঁচিয়া উপজেলায় ৯ জন।
 
উপরের পরিসংখ্যান থেকে আমরা স্পষ্ট দেখতে পাই যে দেশের অনেক স্থানের মত বগুড়াতে সংক্রমণ প্রবণতা খুব শীঘ্রই সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে যেতে বসেছে। সবাই সতর্ক থাকুন। মাস্ক পরুন এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। আপনার এলাকার সংক্রমিত ব্যক্তি যেন নিয়ম মেনে ঘরে থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখুন, তাদের প্রতি বিরূপ আচরণ করবেন না বরং তাদের প্রয়োজনীয় নিত্য পণ্যের যোগানের ব্যবস্থা করুন। বাজার বা ভীড় এড়িয়ে চলুন। একান্ত প্রয়োজন না হলে চিকিৎসকের চেম্বার, ক্লিনিক বা হাসপাতাল এড়িয়ে চলুন।
 
করোনা ভাইরাস সম্বন্ধে আমাদের বাঁচতে হলে জানতে হবে যেহেতু এটা একটি সুকঠিন ছোঁয়াচে রোগ। মাননীয় সরকারের সিদ্ধান্ত অনুসারে লক ডাউন গত ৩১ শে মে থেকে শিথিল করা হয়েছে।বগুড়াতে সংক্রমণ বেশি হওয়াতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে উঠে যেতে। কেন উঠবে সেটাও পরিষ্কার। তানাহলে হাজার হাজার মানুষ উপার্জন-হীন হয়ে পরবে, না খেয়ে মরবে। লকডাউন রাখা হয়েছিল ভাইরাসটা যেন ধীরে ছড়ায়, ততদিনে যেন ভ্যাক্সিন আবিষ্কার হয়ে যায়। কিন্তু মোদ্দা কথা হলো, পুরো পৃথিবীর সবার হাতে হাতে এই ভ্যাক্সিন পৌঁছাতে, কম করে হলেও ৩-৪ বছর সময় লেগে যাবে। তাই এমন অনন্তকাল লক ডাউন রাখা সম্ভব না, সে যত উন্নত রাষ্ট্রই হোক না কেন। চীন,ইতালিতেও উঠিয়ে নেয়া হচ্ছে লকডাউন।
তাহলে আমরা কিভাবে আমাদের অর্থনীতিকে অচল অবস্থায় দীর্ঘদিন রাখতে পারি?
 
এটা একদমই প্রাকৃতিক ব্যাপার!নিজেকে চেঞ্জ করে প্রকৃতিতে টিকে থাকতে হবে। এর নাম Evolution।
 
কিছু করণীয় আছে যেগুলো আমাদেরকে করতেই হবে। না হলে আমরা বাঁচতে পারবো না।
আমাদের নিজেদের মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। কিছু নিয়ম মেনে চললেই এই টিকে থাকা সম্ভব।
 
  • বাজে অভ্যাসগুলা ত্যাগ করতে হবে। যেমন- কথায় কথায় মুখে আঙুল দেয়া, কলমের মুখ কামড়ানো, আঙুল জিব্বায় লাগিয়ে কাগজ উল্টানো,থুতু দিয়ে টাকা গোনা ইত্যাদি।
  • মাস্ক পড়তে হবে এবং সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যেস গড়ে তুলতে হবে। যা খুব ভাল কাজ করবে ইমিউনিটি বৃদ্ধি করতে।
  • ধূমপান যথাসম্ভব পরিহার করতে হবে।
  • আর্দ্রতা এবং তাপমাত্রা খুব ভাল কাজ করে করোনা প্রতিরোধে।তাই ঠান্ডা এসি এভোয়েড করতে হবে।
  • শক্ত-পোক্ত ইমিউনিটির বিকল্প নাই। আমাদের ইমিউনিটি বুস্ট করতেই হবে ভাল ও পুষ্টিকর খাবার খেয়ে।
  • নিয়ম মাফিক ঘুমাতে হবে, রাত জাগা খুব খারাপ শরীর ও ইমিউন সিস্টেমের জন্য। প্রতিদিন কমপক্ষে ৬-৮ ঘন্টা ঘুমাতে হবে।
  • প্রতিদিন ব্যায়াম করতে হবে, প্রায় ১৫-৩০ মিনিট। মাসল এক্টিভিটি বাড়াতে হবে।
  • প্রায়ই রোদে ঘুরতে হবে ছাদে। রোদ দরকার, ভিটামিন ডি লাগবে শরীরের জন্য।
  • ভাত কম খেয়ে তরকারি এবং প্রোটিন জাতীয় খাবার খেতে হবে। প্রচুর পানি খেতে হবে।
  • এন্টি অক্সিডেন্ট যুক্ত খাবার খেতে হবে। তারজন্য শাক সবজি খেতে হবে।
  • ভিটামিন সি বা টক যুক্ত ফল, কমলা, লেবু খেতে হবে। প্রতিদিন সকালে লেবু সেদ্ধ গরম পানি খান।
  • ফাস্ট ফুড টোটালি অফ, চিনি কিংবা লবন খাওয়াও কমাতে হবে।
  • লং, লবঙ্গ, জিরা, হলুদ, দারুচিনি এই গুলা মারাত্মক ভাবে ইমিউনিটি বুস্ট করে। কালিজিরা কার্যকরী একটা জিনিস।
  • ইমিউন বুস্টের মন কে শান্ত রাখতে হবে, হাসি খুশি থাকতে হবে। ধর্মীয় প্রার্থনায় মন দিন, মন সুন্দর থাকবে।
 
বগুড়া বাসীর সবাই ভাল থাকুক, সবাই সুস্থ থাকুক।বাংলাদেশের সকল নাগরিকের মঙ্গল হউক। আমাদের সবার প্রতি সর্বশক্তিমান ঈশ্বর সহায় হোন।
চিত্তরঞ্জন সরকার

খবরটি শেয়ার করুন...

Comments are closed.




© All rights reserved © 2018-20 boguratribune.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com