‘পুঁজিবাদ এবং বাংলাদেশ’

‘পুঁজিবাদ এবং বাংলাদেশ’

পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থার প্রথম পূর্ণ ধাক্কা হলো করোনা ইফেক্ট। বাংলাদেশের শিল্পপতিরা যদি গার্মেন্টস এর মালিক না হয়ে কৃষিভিত্তিক শিল্পপতি হতো তাইলে আজ হাজার হাজার শ্রমিক তাদের মালিক সহ হাহাকার না করে, বরং তৃপ্তির ঢেকুর তুলতো।রাতের আধারে আজরাঈলকে ফাঁকি দিতে প্রাইভেট জেট এ করে পুঁজিপতিদের পালাতেও হতো না।আর দেশের মানুষও অন্তত খাওয়ার কস্ট নিয়ে চিন্তা করতো না।সমতল ভুমির এমন উর্বর দেশের প্রধান উপার্জন যেদিন থেকে পেন্টি,ব্রা, জাঙিয়া ইত্যাদি উৎপাদনে নেমেছিলো সেইদিনেই হয়তো দুর্ভাগা বাংলালীর যাত্রা শুরু হয়েছিলো।যা আমরা তথাকথিত আল্ট্রা মডার্ন জীবন যাপনের মরিচিকার হাতছানিতে দিশেহারা হয়ে ছুটেছি ধরার জন্য।
ফলাফলে কি হয়েছে?
  • জ্ঞ্যান বিজ্ঞানের চর্চা কে মানবিকতার জন্য সোপর্দ না করে শুধু টাকা উপার্জনের ভংুর ভবিষ্যত গড়তে চাওয়া।
  • মেধাবী বাচ্চাগুলোকে ছাত্র পলিটিক্স এর নামে দাউদ ইব্রাহীম বানানো।
  • স্কুল কলেজ সহ সকল প্রতিষ্ঠানে মেধা যাচাই না করে অর্থের মাধ্যমে নিয়োগ।
  • সাধারণ মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যর প্রকৃত উন্নয়ন না করে টাকা দিয়েই সব হয়, এমন দর্শনের পূজা করন।
  • শিক্ষাকে ব্যাপক ভিত্তিক বানিজ্যিকরণ।
  • শিক্ষার্থী দের এ প্লাস নির্ভর গোবরগণেশ বানানো।
  • ঘুষ, চাঁদাবাজী ইত্যাদিকে মানুষের মস্তিষ্কে খারাপ কাজ নয় এমন ভাবে গেথে দেয়া হয়েছে।
  • ধর্মকে শুধু মন্দির,মসজিদ,গির্জায় সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা।
 
টাকা কামাই করে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার ফর্মুলা দিয়ে মানুষের কাম ও মনের চাহিদাকে দমানোর চেষ্টা,এবং এর ফলে প্রতিটি মানুষের জীবনে একাধিক নারীপুরুষ অধ্যায়, ছ্যকা খেয়ে নেশাগ্রস্থ, ধর্ষন,মেয়েদের নগ্ন ছবি ভাইরাল,বিবাহ বিচ্ছেদের হার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি,সংসার জীবনে শান্তির অভাব,গর্ভধারনের ও স্পার্ম এর সক্ষমতা হ্রাস করন।
 
‘পড়াশোনা করে যে গাড়িঘোড়া চরে সে’ এই মন্ত্রে একটা বাচ্চা কখনো স্বপ্ন দেখেনি যে সে পড়াশোনা করে মানুষের সেবা ও মানুষের অন্তরের ভালোবাসা ও সম্মান প্রাপ্ত হবে,বরং শিশুকাল থেকেই সে ভেবেছে যে তার পড়তে হবে গাড়িঘোড়া চড়ার জন্য, বৈধ/অবৈধ যেমনি হোক তার দায়িত্ব হলো টাকা কামাই করা আর সেই টাকাই দামী গাড়ি বাড়ি ঘড়ি পরে সুন্দরী মাকাল ফল স্ত্রীদের কে নগ্ন মডার্ন করে অন্য পুরুষদের সামনে উপস্থাপন করা।
 
উপসংহার হলো যে, আমরা আজ পুঁজিবাদী জীবন যাপনের লোভে সব হাড়ায়ে মনুষ্যত্বহীন এক মেরুদণ্ডীন জাতি।
 
যেখানে সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ভিখিরি পর্যন্ত সকলেই ব্যস্ত একে অন্যের পাছায় ছুড়ি মারতে।
যার ফলে সকলেরই পশ্চাদদেশ ক্ষত বিক্ষত।কিন্তু আমরা শুধু অপরেরটাই দেখতে পাই, নিজেরটা নয়।কারন নিজের পশ্চাদদেশ নিজে দেখার সুযোগ নাই।

খবরটি শেয়ার করুন...

Comments are closed.




© All rights reserved © 2018-20 boguratribune.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com