রিফাত হত্যায় মিন্নিসহ ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড

রিফাত হত্যায় মিন্নিসহ ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড

রিফাত হত্যায় মিন্নিসহ ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড

বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ৬ আসামির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার দুপুরে বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামান এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বাকি চার আসামিকে খালাস দেয়া হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মিন্নি, ফরাজি, রাব্বি, সিফাত, হৃদয়, হাসান।

এর আগে, সকালে মিন্নিসহ নয় আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। আসামিদের মধ্যে কেবল মিন্নিই জামিনে ছিলেন।

বুধবার সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে বাবার সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে আদালত প্রাঙ্গণে পৌঁছান মিন্নি। মামলার বাদী রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফসহ তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যও রায়ের জন্য উপস্থিত ছিলেন আদালতে।

সকাল থেকে জজ আদালত চত্বরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের তল্লাশি করে আদালত চত্বরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়। জেলা ও দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামান সকাল সোয়া ৭টার দিকেই কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আদালতে আসেন।

২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাত শরীফকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। হত্যাকাণ্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি হয়। প্রকাশ্যে এমন হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার মধ্যে ২ জুলাই গোলাগুলিতে মারা যায় অন্যতম আসামি নয়ন বন্ড। এর ১৪ দিন পর মামলার মূল সাক্ষী রিফাতের স্ত্রী মিন্নিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার হয় মামলার অন্য আসামিরাও। হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেয় স্ত্রী মিন্নিসহ আসামিরা।

এ বছরের পয়লা জানুয়ারি হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে রিফাতের স্ত্রী মিন্নিসহ ৭ জন এবং আসামিদের পালাতে সহায়তার অভিযোগে ৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয় পুলিশ। প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে শেষ হয় ৭৬ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ।

করোনার কারণে ১৬৭ দিন পিছিয়ে যায় বিচার কাজ। সব মিলিয়ে হত্যাকাণ্ডের ৪৬১ দিন পর এ রায় দেয়া হলো।

এই মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির মধ্যে ৮ জন জামিনে ও ৬ জন কিশোর অপরাধ সংশোধনাগারে রয়েছে।

খবরটি শেয়ার করুন...

Comments are closed.




© All rights reserved © 2018-20 boguratribune.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com