শিরোনাম :
গন্ধ অনুসন্ধান করিলে প্রতিটি মানুষের পশ্চাদ্দেশেই তাহা পাইবেন বগুড়ায় বিজয় টেলিভিশনের প্রতিনিধি স্বরণের বাড়িতে হামলা ১লাখ সদস্যের মাইলফলক অর্জন করল বগুড়া বিজনেস কেয়ার গ্রুপ চিকিৎসক-পুলিশ বাকবিতণ্ডা: পাল্টাপাল্টি বিবৃতি বগুড়ার ছেলে মার্সিডিজ বেঞ্জ এর কর্মকর্তা বগুড়ায় ৫ দফা দাবিতে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৃতীয় শ্রেণী কর্মচারী পরিষদের মানববন্ধন বগুড়ার মাদ্রাসায় ছাত্রের ওপর মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন বগুড়ার হোটেল মম ইন ও নাজ গার্ডেন’কে ৮লক্ষ টাকা অর্থদন্ড ভ্রমোদিনী নাদিয়া : পৃথিবী দেখা হোক নির্বিঘ্নে এবং নির্ভয়ে প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হলে জনগণ আগ্রহী হবে: জাফরুল্লাহ
ভ্রমোদিনী নাদিয়া : পৃথিবী দেখা হোক নির্বিঘ্নে এবং নির্ভয়ে

ভ্রমোদিনী নাদিয়া : পৃথিবী দেখা হোক নির্বিঘ্নে এবং নির্ভয়ে

ভ্রমোদিনী নাদিয়া : পৃথিবী দেখা হোক নির্বিঘ্নে এবং নির্ভয়ে

বাংলাদেশে পর্যটন শিল্পের রয়েছে অপার সম্ভাবনা। এদেশে প্রায় পাঁচশ’ ছোটবড়ো প্রাকৃতিক ও ঐতিহাসিক পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে। অপার নৈসর্গিক সৌন্দর্য্য, প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক নিদর্শনসমৃদ্ধ বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প বিশ্বের ভ্রমণপ্রিয় মানুষকে আকৃষ্ট করছে। এ শিল্পের আরও বিকাশ দরকার। এতে করে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনা যেমন ফুটে উঠবে তেমনি দেশের অর্থনীতির চাকাও দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাবে।

হোমায়রা নাজমীন নাদিয়া (বয়স ২৬), জন্ম চাঁদপুর জেলার মতলব পৌরসভায়। একটি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছেন। ৩ বছর ধরে পর্যটন শিল্পের সাথে জড়িত। ট্রাভেল গ্রুপ ‘ভ্রমোদিনী’র প্রতিষ্ঠাতা। বোহেমিয়ান ট্রাভেল গ্রুপেরও সহপ্রতিষ্ঠাতা। বগুড়া ট্রিবিউনের পক্ষে এই সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন আলোচিত সাংবাদিক, বগুড়া ট্রিবিউন ডট কম এর প্রধান সম্পাদক, নাভিদ ইবনে সাজিদ নির্জন

বগুড়া ট্রিবিউন : পর্যটন শিল্পের সাথে যুক্ত কেন?

নাদিয়া : ভ্রমন পারসোনালি আমার নেশা থেকে শুরু। ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতি খুব টানতো। এখন বড় হয়ে নেশাই এখন পেশা। এছাড়াও আমার পারসোনাল স্কিল গ্রাফিক্স ডিজাইন’এ। ২০১৩ থেকে অনলাইন মার্কেটপ্লেস ফাইভার এ কাজ করে আসছি। ছোটখাট একটা টিম ও রয়েছে আইটি রিলেটেড।

বগুড়া ট্রিবিউন : আপনি সম্ভবত মেয়েদের জন্য ট্যুর এরেঞ্জ করেন, এই নিয়ে কিছু বলুন?
নাদিয়া : মেয়েরা ইচ্ছে থাকলেও সেফটির ভয়ে অনেক সময়েই বাইরে কোথাও যেতে সাহস সঞ্চয় করতে পারেনা, এই ব্যাপারটা মাথায় রেখেই মেয়েদের জন্যে এঞ্জেল ট্রিপ এর ব্যাবস্থা করে থাকি। পৃথিবী দেখা হোক নির্বিঘ্নে এবং নির্ভয়ে।
বগুড়া ট্রিবিউন : কিছু আকর্ষণীয় জায়গার নাম বলুন এবং আপনাদের সাথে সেখানে ঘুরতে কেমন খরচ হবে?
নাদিয়া : আমার পারসোনাল পছন্দের যায়গা সাজেক এর বাঁশবাড়ি ইয়ার্ড, যেটা সমতলে নয়। একদম পাহাড়ের সর্বোচচ চূড়ায়। ৭২০০ টাকার মতো খরচ করেই দিব্যি ২ রাত থেকে আস্তে পারবেন অসাধারন এই ইকো ইয়ার্ডটিতে। অবশ্যই ১০-১২ জন টিম এ যেতে হবে নাহলে খরচটা এখানে বেড়ে যাবে অনেকাংশে।
২য় পছন্দের যায়গা দেবতাখুম। যেখানে ১ দিনেই ট্যুর করা সম্ভব। মানে বৃহস্পতিবার রাতে রওনা দিলে শনিবার সকাল ঢাকায় থাকবেন। খরছ পরবে ৩০০০ এর মতো। এখানে ১০ জনের গ্রুপ লাগবে।
আর ৩য় পছন্দের যায়গা হচ্ছে সেন্টমার্টিন। ৬০০০ এর মধ্যে ২ রাত থেকে ঘুড়ে আসতে পারবেন এখান থেকে।

বগুড়া ট্রিবিউন : ভবিষ্যতে এই সেক্টরে কী কী করার ইচ্ছে আপনার?

নাদিয়া : ভবিষ্যতে ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে সবাই যেনো নির্বিঘ্নে ঘুরতে পারে সেরকম পরিবেশ তৈরী করতে চাই। আমাদের সমাজে যে মেয়েরা একটু ঘুড়াঘুড়ি করে তাদেরকে নানান কটূক্তি শুনতে হয় এমনকি সমাজ ও অনেক ক্ষেত্রে খারাপ চোখে দেখে, এই দৃষ্টিভঙ্গিটা আমাদের পালটানো উচিত বলে মনে করি। সবাই মানুষ। সবারই স্বাধীনতা রয়েছে নিজের ইচ্ছা পূরণের। ভবিষ্যতে সারাদেশে ইকো বেজ ট্যুরিজম গড়ে তোলার ইচ্ছে রয়েছে এবং চাই কোন মেয়ে যদি ট্যুরিজম নিয়ে কাজ করতে চায় সে যেনো কোন বাঁধার সম্মুখীন না হয়, কারন অন্যান্য পেশার মতো ট্যুরিজম ও একটি সম্মানজনক পেশা। কাজ কখনো অসম্মানের হয় না, অসম্মানিত করে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি।

আমার পারসোনাল ড্রিম এর যায়গা হচ্ছে প্রচুর পরিমান মেয়ে যারা কাজ করতে ইচ্ছুক কিন্তু সমাজের ভয়ে পা বাড়াতে ভয় পায় তাদের সুযোগ করে দেয়া সামনে এগোনোর জন্যে।

বগুড়া ট্রিবিউন : মেয়ে হয়ে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়?

নাদিয়া : মেয়ে মানেই তো সমস্যা। এক কথায় বলতে গেলে আমাদের সোসাইটি এখন তৈরিই হয়নি মেয়েদের কোন কাজ সরল্ভাবে মেনে নেয়ার জন্যে। একদম উপর লেভেল থেকে লো পর্যন্ত সর্বক্ষেত্রেই হ্যারাজ রয়েছে। কিন্তু কয়জন মুখ খুলে প্রতিবাদ করে। আমি নিজেও অনেক বাঁধার সম্মুখীন হয়েছি কিন্তু ভয়ে থেমে যাইনি কখনো।

বগুড়া ট্রিবিউন : এই সেক্টরে ব্যবসা সম্ভাবনা কেমন?
নাদিয়া : এই সেক্টরে ব্যবসার সম্ভাবনা খুবই সম্ভাবনাময়। আমরা এমনিতেই ট্যুরিজম এ অনেক পিছিয়ে আছি। তারপরেও এখন তরুন প্রজন্মের অনেকেই উদ্যেগ নিয়ে এগিয়ে আসছে দেখে ভালো লাগে।
বগুড়া ট্রিবিউন : সরকারের থেকে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং কী কী পদক্ষেপ ভবিষ্যতে নিলে ভালো হয়?
নাদিয়া : সরকারের দিকে ট্যুরিজম খাতে তেমন কোন পদক্ষেপ চোখে পড়ার মতো পরে না। সরকার সব স্পটগুলোতে ন্যাচার রক্ষার কিছু রুলস করে দিলে খুবই ভালো হতো এবং আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম সেই সৌন্দর্য হয়তো উপভোগ করতে পারতো। তবে এবার ট্যুরিজম খাতে কিছু সম্মান পুরস্কার এবং ক্ষুদ্র ঋণ এর ব্যাবস্থা করেছে সরকার যেটা তরুন প্রজন্মকে এই খাতে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করবে।

বগুড়া ট্রিবিউন : আমাদেরকে সময় দেবার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ।

নাদিয়া :আপনাকেও ধন্যবাদ।

খবরটি শেয়ার করুন...

Comments are closed.




© All rights reserved © 2018-20 boguratribune.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com