শিরোনাম :
গন্ধ অনুসন্ধান করিলে প্রতিটি মানুষের পশ্চাদ্দেশেই তাহা পাইবেন বগুড়ায় বিজয় টেলিভিশনের প্রতিনিধি স্বরণের বাড়িতে হামলা ১লাখ সদস্যের মাইলফলক অর্জন করল বগুড়া বিজনেস কেয়ার গ্রুপ চিকিৎসক-পুলিশ বাকবিতণ্ডা: পাল্টাপাল্টি বিবৃতি বগুড়ার ছেলে মার্সিডিজ বেঞ্জ এর কর্মকর্তা বগুড়ায় ৫ দফা দাবিতে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৃতীয় শ্রেণী কর্মচারী পরিষদের মানববন্ধন বগুড়ার মাদ্রাসায় ছাত্রের ওপর মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন বগুড়ার হোটেল মম ইন ও নাজ গার্ডেন’কে ৮লক্ষ টাকা অর্থদন্ড ভ্রমোদিনী নাদিয়া : পৃথিবী দেখা হোক নির্বিঘ্নে এবং নির্ভয়ে প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হলে জনগণ আগ্রহী হবে: জাফরুল্লাহ
বগুড়ার ছেলে মার্সিডিজ বেঞ্জ এর কর্মকর্তা

বগুড়ার ছেলে মার্সিডিজ বেঞ্জ এর কর্মকর্তা

বগুড়ার ছেলে মার্সিডিজ বেঞ্জ এর কর্মকর্তা

এস.এম. রাফিউল ইসলাম; বাড়ি বগুড়ার সেউজগাড়ি এলাকায়। বগুড়া ওয়াইএমসিএ স্কুল থেকে এসএসসি (২০১৩) ও পুলিশ লাইন্স স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এইচএসসি (২০১৫) পাশ করার পর বর্তমানে SEGI UNIVERCITY – সেগী ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে পড়াশোনা করেছেন।
রাফিউল ইসলাম মার্সিডিজ বেঞ্জ মালয়েশিয়ার সদর দফতরের প্রথম বাংলাদেশী কর্মকর্তা (জনসংযোগ সমন্বয়কারী)। প্রথম বাংলাদেশী ডিজে, যিনি মালয়েশিয়ায় ১২৪জন ডিজের ভেতর প্রথম হয়ে মালয়েশিয়ায় জাতীয় পুরষ্কার অর্জন করেন।

বাবা এসএম শামসুল ইসলাম নেকটার এর ফাউন্ডিং মেম্বার এবং কম্পিউটার বিভাগের প্রধান ছিলেন। ৩বছর বয়সে তার বাবা মারা যান। মা রেবেকা সুলতানা হেলেন বগুড়ার শেরপুর জয়লাজুয়ান ডিগ্রী কলেজ এর মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক। রাফির জীবনে একজন ওয়ান্ডার ওম্যান ছিলেন তিনি। একইসঙ্গে মা এবং বাবার ভূমিকা পালন করেছেন রাফির মা রেবেকা সুলতানা।

পরিবার সম্পর্কে জানতে চাইলে রাফি বলেন : আমার মা আর আমরা দুই ভাই, এই নিয়েই আমাদের পরিবার। আমার ভাই বংশের বড় ছেলে আর আমি বংশের ছোট ছেলে। আমার ভাই এর নাম তানজিজুল ইসলাম শরন। সে ই আমার আভিভাবক। আমার ভাই আমাকে নিজের ছেলের মতো ভালবাসে। আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না আমি তাকে কতটা ভালবাসি।
বগুড়াকে নিয়ে কী ভাবেন? প্রশ্ন করা হলে বগুড়া ট্রিবিউনকে রাফি বলেন : বগুড়ার আদি নাম পুন্ড্রনগর’ই ছিল বাংলার আদি রাজধানী। এই শহরের আনাচে কানাচে মেধা দিয়ে ভরা। শুধু ইউটিলাইজ হচ্ছে না। আজ অনেকে অনেক কিছু করতে চেয়েও পেরে উঠছে না; মেন্টাল সাপোর্ট পাচ্ছে না, আমি এই মেধাগুলো নিয়া কাজ করতে চাই। বাংলাদেশের মধ্যে অন্যতম সুন্দর শহর আমদের বগুড়া। এই শহর সুন্দর ও পরিপাটি রাখার দায়িত্ব আমদের। কেননা আমি বিশ্বাস করি বগুড়া কিন্তু একটা শহর না, বগুড়া হল আপনি-আমি। আমরা এই শহরকে রিপ্রেজেন্ট করি। তাই আপনি-আমি মিলেই এই শহরের জন্য কিছু করতে হবে। বেশী কিছু করতে না পারলেও ছোট ছোট কাজ করতে হবে, অন্তত একটা ভালো অভ্যাস করি যে চিপস খেয়ে যেখানে সেখানে প্যাকেট টা না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলি। এভাবেই বগুড়া শহরটার পরিবর্তন হবে, এভাবেই বদলে যাবে আমাদের বাংলাদেশ।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে রাফি বগুড়া ট্রিবিউনকে জানান : ভবিষ্যৎ এর  বিষয়টা আসলে, আমি প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই এটা ভাবি যে আজকেই আমার শেষ দিন। যা করার আজকেই করতে হবে। এইটা পরে করবো, ওইটা কাল করবো, এমন না। ভবিষ্যৎ সব সময়ই আমার কাছে একটা রহস্য। তবে ভবিষ্যৎ’এ আমার বেশকিছু করার ইচ্ছা আছে, আমি একটা বৃদ্ধা আশ্রম খুলতে চাই। আমার মা হবে সেখানকার পরিচালক। একটা পাঠাগার করতে চাই যেখানে সব রকম এর বই থাকবে। আমদের পরের জেনারেশনটা খুব একটা বইমুখি না, তাদেরকে বই পড়ার জন্য ইন্সপায়ার করতে চাই। আমি বিশ্বাস করি, একটা বই যতটা জ্ঞান দিতে পারবে ১০টা মুভিও সেইটা দিতে পারবে না।
প্রফেশনাল মিউজিক এর দিকে আর একটু সময় দিতে চাই। বাংলাদেশে EDM মিউজিক এর ভিত্তিটা আর একটু মজবুত করতে চাই।
তরুণ প্রজন্মের জন্য কোনো বার্তার জানতে চাইলে রাফিউল ইসলাম বগুড়া ট্রিবিউনকে জানান : দেশের বাইরে আসলাম, মালয়েশিয়ার SEGI UNIVERCITY তে পড়তাম। আমি এখনো মনে করতে পারি, বিকাল ৩:৩০ এ ক্লাস শেষ। ক্লাস শেষ করে তাড়াতড়ি করে খাওয়া দাওয়া করে দৌড়ায়া কাজে যেতাম। আমার কাজ ছিল ৪:৩০ থেকে। একটা কথা তখন বিশ্বাস করতাম,পরিশ্রম এবং শুধু পরিশ্রমই পারে আমার জীবন বদলে দিতে। পৃথিবীতে যতো বড় বড় মানুষ আছেন, সবাই স্ট্রগল করেছেন, তো আমি কেন পারবো না? কোনো কিছুই সহজ না যদি তুমি অলস হও। এবং তুমি যদি কোনোকিছু পাওয়ার জন্য ক্রেজি হয়ে ওঠো তাহলে সেটা পাওয়া অনেক সহজ হয়ে ওঠে।

আমি আমার পরবর্তী জেনারেশনকে শুধু এইটা বলব। তোমরা অনেক ভাগ্যবান একটা জেনারেশন। তোমরা আজকে বগুড়ায় বসে সেইম প্লাটফরম পাচ্ছো, যেটা কি না শিকাগোর একটা ছেলে পাচ্ছে। ইন্টারনেট। আমাদের সেরা বন্ধু ও আমাদের সেরা শিক্ষক। কিছু জানতে চাচ্ছো? কিছু একটা করতে চাচ্ছো? পাচ্ছো না? সার্চ অন গুগল। স্মার্টনেস বলতে তোমার পোশাক কিংবা তোমার ব্রান্ড এর ফোনটাকে বুঝায় না, স্মার্টনেস বলতে বুঝায় তুমি কতটুকু জানো। তুমি কতটা ইনফরমেটিভ। যে ব্যাপারটা নিয়ে তুমি প্যাশনেট সেটা নিয়ে তুমি ইন্টারনেট ব্রাউজ করো, স্টাডি করো।

অনেকে দেখি ডিপ্রেসড। আমি মিডলক্লাস ফ্যামিলি থেকে এসেছি, আমি কি পারবো? সবসময় মনে রাখবেন, এটি আপনার ভুল নয় যে আপনি ধনী পরিবার থেকে আসেননি তবে একটি ধনী পরিবার আপনার কাছ থেকে আসতে হবে।
একজন মানুষের সবচে বড় এ্যাসেট হচ্ছে তার সার্টিফিকেট, বিশ্বাস করুন, কেবল শিক্ষাই আপনার জীবনকে পরিবর্তন করতে পারে।

খবরটি শেয়ার করুন...

Comments are closed.




© All rights reserved © 2018-20 boguratribune.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com