একটি প্রচলিত লোককথা থেকে জানা যায়, পারস্যের বিখ্যাত প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিত্ব শেখ সাদী (রঃ) একদা কোনো পথ ধরে যাওয়ার সময় বাতাসের দোলায় ভেসে আসা এক অপরূপ সুবাসে থমকে দাঁড়ান। চারপাশ খুঁজে তিনি অবাক হয়ে দেখলেন—সেই মোহনীয় সুবাস কোনো ফুল থেকে নয়, আসছে পথের একদলা সাধারণ শুকনো মাটি থেকে!
বিস্মিত হয়ে তিনি মাটির দলাটিকে প্রশ্ন করলেন, “তুমি তো নিতান্তই শুকনো মাটি! তোমার তো নিজস্ব এমন সুবাস থাকার কথা নয়। এই অপূর্ব সুগন্ধ তুমি কীভাবে পেলে?”
মাটি বিনীতভাবে উত্তর দিল—
“হে মহাজ্ঞানী, আমার নিজস্ব কোনো সুগন্ধ ছিল না। তবে আমি যেখানে পড়ে ছিলাম, সেখানে ছিল এক রক্তিম বসরাই গোলাপের গাছ। প্রতিদিন ভোরে শিশিরভেজা গোলাপের পাপড়িগুলো আমার ওপর ঝরে পড়ত। সেই পরম সান্নিধ্যেই আজ আমি এমন সুবাসিত।”
গল্পটি মাটির হলেও, এটি আসলে আমাদের মানুষের জীবনেরই এক জীবন্ত রূপক।
১. চিন্তাধারা ও মূল্যবোধের গঠন:
আমরা বাস্তব জীবনে কাদের সাথে সময় কাটাচ্ছি, কেমন মানুষের চিন্তাভাবনা অনুসরণ করছি—তার সরাসরি প্রভাব পড়ে আমাদের মননে। আমরা যদি সত্য, ন্যায়বিচার এবং সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য নিবেদিতপ্রাণ মানুষের সংস্পর্শে থাকি, তবে আমাদের চিন্তা ও কাজেও সেই সততা ও সাহসের সুবাস ছড়িয়ে পড়ে।
২. পেশাগত ও সামাজিক অঙ্গনে প্রভাব:
কর্মক্ষেত্র, আইন, সাংবাদিকতা কিংবা সামাজিক উন্নয়নের যে ক্ষেত্রই হোক না কেন—দক্ষ, নীতিবান ও দূরদর্শী মানুষদের কাজের পরিবেশ বা প্রভাবে থাকলে সাধারণ অবস্থান থেকেও অসাধারণ কিছু করার অনুপ্রেরণা জাগে। বিপরীতভাবে, ভুল পরিবেশ ও অসৎ সান্নিধ্য মানুষের মেধা ও সম্ভাবনাকে কলঙ্কিত করতে পারে।
৩. অনুপ্রেরণার উৎস:
যেভাবে শুকনো মাটি গোলাপের পাপড়ির সুবাস শুষে নিয়ে নিজে সুবাসিত হয়েছিল, ঠিক তেমনি সমাজে যারা নীতি, সততা ও অগ্রগতির প্রতীক—তাদের সান্নিধ্য ও কাজ আমাদের ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি ও চিন্তাকে সমৃদ্ধ করে।
সারসংক্ষেপ:
মানুষ যেখানে থাকে, যাদের সংস্পর্শে সময় কাটায় এবং মগজে-মননে যাদের ধারণ করে—নিজের অজান্তেই তার চরিত্রের রূপান্তর ঘটে। গোলাপের পাশে থাকলে মাটি যেমন সুবাস পায়, তেমনি সৎ ও মহৎ আদর্শের সান্নিধ্যে থাকলে মানুষের জীবনও অর্থপূর্ণ ও সুবাসিত হয়ে ওঠে।
যে কথা বলা হয়নি / নাভিদ ইবনে সাজিদ নির্জন (প্রধান সম্পাদক, বগুড়া ট্রিবিউন)